হাওজা নিউজ এজেন্সি: লেবাননের মুসলিম উলামা পরিষদের প্রশাসনিক কমিটি সম্প্রতি তাদের নিয়মিত বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার প্রতিরোধের অস্ত্র ইস্যুতে জেদ ধরে রাজনৈতিক লড়াই ও হুমকি চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি “ক্যাম্পে অস্ত্র সমর্পণ” নামে এক হাস্যকর প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও লেবানন সরকারের মধ্যে গোপন সমঝোতা, যার অধীনে একটি ভাড়াকৃত বেসামরিক ট্রাকে করে কিছু লোহালক্কড় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—ক্যাম্পের অস্ত্র সমর্পণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এসব অস্ত্র শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং যতদিন না ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে যায়, এসব অস্ত্র কখনো হস্তান্তর করা হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে প্রতিরোধের অস্ত্র একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। এই অস্ত্রই লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার, ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। অস্ত্র সমর্পণ করা হলে এসব কিছুই অর্জন সম্ভব নয়।
পরিষদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলি শত্রু নতুন নতুন গ্রাম দখলের হুমকি দিচ্ছে এবং ২০০০ সালের আগে যে ভূখণ্ড তার দখলে ছিল তার চেয়েও বেশি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। তাই লেবানন সরকারকে মার্কিন সমঝোতার প্রলোভনের ওপর নির্ভরশীলতা ত্যাগ করতে হবে এবং সেটিকে এমনভাবে বিবেচনা করতে হবে যেন তা আদৌ ছিল না—যতদিন না শত্রু দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যায়, আকাশ–স্থল–সমুদ্রপথে আগ্রাসন বন্ধ করে এবং লেবাননি বন্দিদের মুক্তি দেয়। এর পরেই প্রতিরোধের অস্ত্রকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা সম্ভব।
বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, কীভাবে লেবানন সরকার প্রায় এক বছর আটক থাকা এক ইসরায়েলি নাগরিককে বিনিময় ছাড়া শত্রুর হাতে ফিরিয়ে দিল, অথচ শত্রুর কারাগারে এখনও ১৯ জন লেবাননি বন্দি রয়েছে? কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি ছাড়া এ হস্তান্তর কীভাবে সম্ভব হলো? পরিষদ আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, সরকার হয়তো আবারও মার্কিন নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এ ঘটনাকে জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দিয়ে এর দায়ীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে।
অন্যদিকে, পরিষদ লেবানন সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক ঘোষণাকে স্বাগত জানায়—যেখানে সেনারা আশ্বাস দিয়েছে যে তারা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে না এবং কেউ যাতে সেনা ও প্রতিরোধের মধ্যে সংঘাত উসকে দিতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে। আলেমরা একে সেনাবাহিনীর বিচক্ষণতা ও শান্তি রক্ষার আন্তরিকতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।
পরিষদ আরও জানায়, ইসরায়েল প্রতিনিয়ত জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। সম্প্রতি তারা মারুন আল-রাস শহরে একটি প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে প্রতিদিন গোলাবর্ষণ ও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে, যাতে দখলকৃত এলাকা আরও বিস্তৃত করা যায়।
গাজা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিষদ জানায়, খান ইউনুসে তারা দখলদার সেনাদের ঘাঁটিতে সাহসী অভিযান চালিয়েছে। এতে প্রায় বিশজন ইসরায়েলি সৈন্য লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং একটি মারকাভা ট্যাঙ্কের কমান্ডারকে গুলিতে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে।
পরিষদ তাদের বিবৃতির শেষে জোর দিয়ে বলেছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রতিরোধ এখনো শক্তিশালী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যদি ইসরায়েল গাজা দখলের চেষ্টা করে, তবে শহীদপ্রত্যাশী ব্রিগেড তাদের প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আপনার কমেন্ট